
জেফরি এপস্টিন—এক সময়ের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী, যার নাম আজ পৈশাচিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সমার্থক। সাম্প্রতিক 'এপস্টিন ফাইলস' প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই নথিগুলো কেবল অপরাধের দলিল নয়, বরং আধুনিক সভ্যতার তথাকথিত 'এলিট' সমাজের এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
প্রকাশিত নথিতে বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রিন্স অ্যান্ড্রু থেকে শুরু করে বিল গেটস বা ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিদের নাম আসা বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে স্টিফেন হকিং এবং মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি, তবুও প্রশ্ন উঠছে—কেন এই মনীষীরা একজন দণ্ডিত অপরাধীর ব্যক্তিগত দ্বীপে আমন্ত্রিত হতেন?
১৯৯৯ সালে স্ট্যানলি কুবরিক তার ‘আইজ ওয়াইড শাট’ সিনেমায় যে মুখোশধারী অভিজাতদের গোপন কামনার জগত দেখিয়েছিলেন, আজ এপস্টিনের দ্বীপের ঘটনা যেন তারই বাস্তব সংস্করণ। কুবরিকের রহস্যময় মৃত্যু এবং সিনেমার বিতর্কিত ২৪ মিনিট বাদ পড়া আজও ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
২০০৯ সালে মেক্সিকান মডেল গ্যাব্রিয়েলা রিকো জিমেনেজের সেই আর্তনাদ—"তারা শিশুদের খাচ্ছে"—তখন পাগলামি বলে উড়িয়ে দেওয়া হলেও, এপস্টিন নেটওয়ার্কের শিশু পাচার ও নির্যাতনের খবরগুলো আজ সেই স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে। নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ইনোসেন্ট’ বা ‘ফিলথি রিচ’ সিরিজগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিচার ব্যবস্থা এবং আইন অনেক সময় ধনকুবেরদের হাতের পুতুল মাত্র।
উপসংহার: এপস্টিন ফাইলস কেবল কিছু নামের তালিকা নয়; এটি ক্ষমতার এমন এক অন্ধকার গুহা যেখানে পৌঁছানোর সাহস সাধারণ মানুষের নেই। প্রশ্ন থেকেই যায়, এই সত্য কি পুরোপুরি উন্মোচিত হবে, নাকি প্রভাবশালীরা আবারও পর্দার আড়ালে সব ধামাচাপা দিয়ে দেবে?