
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নিহতরা ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামক একটি ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সদস্য।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তীব্র গুলি বিনিময় হয়। এতে স্থানীয় কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরো, আদিল এবং ওয়াসিম নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের দাবিও করেছে সেনাবাহিনী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতরা বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের অংশ। বর্তমানে ওই এলাকায় ‘স্যানিটাইজেশন’ অভিযান চলছে যাতে অন্য কোনো সহযোগীকে ধরা যায়। আইএসপিআর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ বা সংহতির সংকল্প অনুযায়ী পাকিস্তান থেকে বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
২০২৫ সালে মোট অভিযান: ৭৫,১৭৫টি।
নিহত সন্ত্রাসী: ২,৫৯৭ জন।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান প্রায়শই তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার জন্য ভারতকে দায়ী করলেও ভারত বরাবরই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তের এই অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ক্রমাগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সূত্র: জিও নিউজ ও আইএসপিআর