# পাকিস্তান যোগ দিলেও ভারতের দ্বিধা: ট্রাম্পের ‘শান্তি মিশনে’ দিল্লির কৌশলগত টানাপোড়েন

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4/
- Published: 2026-01-26T08:34:33+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

‘বোর্ড অব পিস’: ট্রাম্পের নতুন শান্তি প্রস্তাব কি ভারতের জন্য কৌশলগত ফাঁদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ‘বোর্ড অব পিস’-এর ঘোষণা দেন, তখন এটিকে গাজা
যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের একটি উদ্যোগ মনে করা হয়েছিল। কিন্তু খসড়া সনদের ভাষা ও কাঠামো
বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল গাজা নয়, বরং বৈশ্বিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে এক
নতুন মার্কিন কৌশলের আভাস। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এক চরম নীতিগত সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন

বোর্ড অব পিসের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো এর ক্ষমতার বিন্যাস। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক
বহুপাক্ষিক কাঠামো নয়, বরং ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

আজীবন চেয়ারম্যান: ডোনাল্ড ট্রাম্প হবেন ‘প্রারম্ভিক চেয়ারম্যান’, যার মেয়াদের কোনো
নির্দিষ্ট সীমা নেই।

চূড়ান্ত কর্তৃত্ব: সনদের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে তাঁর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

বিকল্প ব্যবস্থা: এটি জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দাঁড়ালেও এখানে জবাবদিহিতার সুযোগ অনেক
কম।

ভারতের প্রধান দুশ্চিন্তা: কাশ্মীর ইস্যু

ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো কাশ্মীর একটি দ্বিপাক্ষি[ক বিষয় এবং এতে তৃতীয়](https://dailybogratimes.com/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4/)
পক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু বোর্ড অব পিসের ম্যান্ডেট এতটাই বিস্তৃত
যে, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে ‘সংঘাত’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ট্রাম্প মধ্যস্থতা
করতে পারেন।

ইতিমধ্যে পাকিস্তানের এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তান একই বোর্ডে বসলে এবং সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে থাকলে ভারতের
দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ফিলিস্তিন ও নৈতিক অবস্থান

ভারত ১৯৮৮ সাল থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বোর্ডে
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কোনো সরাসরি প্রতিনিধি থাকবে না, থাকবে বোর্ডের অধীনস্থ একটি ‘
টেকনোক্র্যাটিক প্যানেল’। এই কাঠামোয় যুক্ত হওয়া ভারতের জন্য নৈতিকভাবে অস্বস্তিকর 
হতে পারে।

ভারতের সামনে ‘বাস্তববাদী’ বনাম ‘নীতিগত’ যুক্তি

ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বর্তমানে দুটি ধারা কাজ করছে:

যোগ দেওয়ার পক্ষে বাইরে থাকলে তুরস্ক, কাতার বা পাকিস্তান এজেন্ডা নিয়ন্ত্রণ করবে। 
গ্লোবাল সাউথের নেতা হতে গেলে এই মঞ্চে থাকা জরুরি।
 যোগ দেওয়ার বিপক্ষে এটি ‘পে-টু-
প্লে’ ব্যবস্থা (১ বিলিয়ন ডলার অবদান)। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির চাপে মাথা নত করা হবে
নেতৃত্বের পরিপন্থী। উপসংহার: বুদ্ধিমত্তার পরিচয় কোন পথে?

ফ্রান্স বোর্ডে যোগ দিতে অনীহা জানানোয় ২০০ শতাংশ শুল্কের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন,
তা ভারতের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি ‘না’ বললে বাণিজ্যিক
ঝুঁকির ভয় আছে, আবার ‘হ্যাঁ’ বললে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক দরকষাকষির পথ খুলে যেতে
পারে।

এমতাবস্থায়, ভারতের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের পথ হতে পারে সিদ্ধান্তটি ঝরিয়ে রাখা বা
সময় নেওয়া। শান্তির নামে নিজের সংবেদনশীল ইস্যুতে ঝুঁকি নেওয়ার আগে ভারতকে প্রতিটি 
পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ফেলতে হবে।

**সূত্র: দ্য অয়ার**
