
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনের ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ এনে পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘেরাও শেষে পরাজিত দুই প্রার্থী জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর আশ্বাস পান।
বিকেলে অফিস ঘেরাও, সন্ধ্যায় বৈঠক
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা "অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না", "ভোট গণনা বাতিল চাই" ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যালয়ের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভরত অবস্থায় পাবনা-৩ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন ও পাবনা-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বৈঠকে তারা ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান।
প্রার্থীদের অভিযোগ ও আশা
বৈঠক শেষে বের হয়ে পাবনা-৩ আসনের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। আমাদের নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা হয়েছে। ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। আমি পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেছি। আশা করছি পুনরায় গণনা করা হলে আমি জয়ী হব।"
একই অভিযোগ ও দাবি জানান পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
প্রশাসনের বক্তব্য: সিদ্ধান্ত ইসি’র
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জানান, "জেলা প্রশাসক মহোদয় দুই প্রার্থীর আবেদন ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে অগ্রগামী করে দিয়েছেন। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আপাতত ফলাফল স্থগিত হওয়ার কোনো বিষয় এখানে নেই। দুই পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে চলে গেছেন।"
ফলাফলে যা আছে
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল বিজয়ী হন। তিনি পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব পান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
পাবনা-৩ আসনে ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে বিজয়ী হন জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার। তিনি পান ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির তুহিন পান ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।