
নিউজ ডেস্কঃ-
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি উপজেলায় 'ফ্যামিলি কার্ড' চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।
উপকারভোগী নির্বাচন পদ্ধতি
উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও আর্থিক তথ্য না থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। উপকারভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা সভায় জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ, ফলে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।
একীভূত সেবা ও ডিজিটাল বিতরণ
অর্থ বিভাগের সচিব জানান, ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনেরেবল উইমেন বেনিফিট (ভিজিডি) কর্মসূচি একীভূত করা যেতে পারে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারে পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য পৃথক কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা ভাতা পেতে পারবেন।
বাস্তবায়ন কাঠামো
আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। ১৩ উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে পাইলটিংয়ের মাধ্যমে নারীপ্রধান প্রতিটি খানার নামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে বিতরণ করা হবে।
নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া অন্য কোনো ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের পূর্ববর্তী ভাতা বহাল থাকবে।
প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবে যেসব এলাকা:
পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এলাকাগুলো হলো:
বনানীর কড়াইল বস্তি (ঢাকা)
পাংশা (রাজবাড়ী)
পতেঙ্গা (চট্টগ্রাম)
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
লামা (বান্দরবান)
খালিশপুর (খুলনা)
চরফ্যাশন (ভোলা)
দিরাই (সুনামগঞ্জ)
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
বগুড়া সদর
লালপুর (নাটোর)
ঠাকুরগাঁও সদর
নবাগঞ্জ (দিনাজপুর)