
নিউজ ডেস্কঃ-: ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প শ্রমিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার শিকার হয়ে নিরব হোসেন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাম্পের তিন শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে র্যাব।
নিহত নিরব হোসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করতেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের বন্ধু ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে তেল নিতে বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় পাম্প শ্রমিকরা তাদের বলেন, 'তেল নেই, পাম্প বন্ধ।' পরে তারা আরেকটি পাম্পে যান। সেখানেও তেল না পেয়ে ফেরার পথে তারা দেখতে পান, ওই পাম্পেই বোতলে ভরে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তারা পাম্প শ্রমিকদের প্রশ্ন করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পাম্প শ্রমিকরা নিরব ও তার বন্ধুকে মারধর শুরু করে। পরে নিরব কোনোভাবে সেখান থেকে সরে গিয়ে বাসায় ফিরে যান। কিন্তু বাসায় গিয়ে তিনি অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল সুমন জানান, 'হাসপাতালে আসার কয়েক মিনিটের মাথায় নিরবের মৃত্যু হয়। তার শরীরের কান ও মাথার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।'
এ ঘটনায় পাম্পের মালিক হারুন অর রশিদ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, 'আমি ঢাকায় আছি। পাম্পে একটি ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি জেনেছি। তবে কী নিয়ে ঘটনা তা বিস্তারিত জানতে পারিনি।'
ঘটনার পরপরই ঝিনাইদহ র্যাব-৬ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পাম্পের তিন শ্রমিক নাছিম হোসেন, রমিজুল ইসলাম ও দাউদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬ এর কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'তেল নিতে আসা এক যুবকের সঙ্গে পাম্প শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে ওই যুবক হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যান। ঘটনার পর পাম্পের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।'
এলাকাবাসী জানান, ফিলিং স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই রাতের বেলায় বোতলে তেল বিক্রি করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ও র্যাব বলছে, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।