# ফেব্রুয়ারিতে দেশে ৫১৭ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৪৩২, বেশি প্রাণহানি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a7%ab%e0%a7%a7%e0%a7%ad-%e0%a6%b8/
- Published: 2026-03-08T10:33:19+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**প্রেস বিজ্ঞপ্তি | ঢাকা | ৮ মার্চ ২০২৬**

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৮ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৫৬ জন নারী ও ৬২ জন শিশু। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেলে।

রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে **রোড সেফটি ফাউন্ডেশন**। সংস্থাটি 
৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের
ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে মোট ১৮৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন,
যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ সময় দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট
নিহতের ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৪ জন।

একই সময়ে ৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ৪৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায়
২৮ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

### যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানি

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৪ জন (৪০.২৭%), বাসের যাত্রী ২২
জন (৫.০৯%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-লরি আরোহী ২৪ জন (৫.৫৫%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস
আরোহী ১৬ জন (৩.৭০%)।
এ ছাড়া থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান
ও লেগুনা) ৬৪ জন (১৪.৮১%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (৫.৩২%) এবং বাইসাইকেল
আরোহী ৭ জন (১.৬২%) নিহত হয়েছেন।

### কোথায় বেশি দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনার সড়ক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কে ১৫৭টি (৩০.৩৬%), আঞ্চলিক সড়কে ২১৩টি(
৪১.১৯%), গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি (১০.৮৩%) এবং শহরের সড়কে ৮৪টি (১৬.২৪%) দুর্ঘটনা ঘটেছে।
অন্যান্য স্থানে ঘটেছে ৭টি দুর্ঘটনা।

### দুর্ঘটনার ধরন

মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১১৩টি (২১.৮৫%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২৮টি (৪৪.১০%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে,
১০৪টি (২০.১১%) পথচারীকে ধাক্কা বা চাপা দিয়ে, ৬৮টি (১৩.১৫%) পেছন থেকে আঘাত করার কারণে
এবং ৪টি অন্য কারণে ঘটেছে।

### দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন

ফেব্রুয়ারিতে দুর্ঘটনায় মোট ৮২৬টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে বাস ৯৪টি, ট্রাক ১৩৮টি,
মোটরসাইকেল ১৯৯টি এবং থ্রি-হুইলার ১৫২টি। এছাড়া কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, লরি,
ড্রাম ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন জড়িত ছিল।

### সময়ভিত্তিক দুর্ঘটনা

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ৫.৬০ শতাংশ ভোরে, ২২.৪৩ শতাংশ সকালে, ২০.১১ শতাংশ
দুপুরে, ১৫.৪৭ শতাংশ বিকেলে, ১৬.৬৩ শতাংশ সন্ধ্যায় এবং ১৯.৭২ শতাংশ রাতে ঘটেছে।

### বিভাগভিত্তিক চিত্র

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। 
আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে—২৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ২২ জন।

রাজশাহী বিভাগে ১৪.৭০ শতাংশ দুর্ঘটনা এবং ১৪.৮১ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। রাজধানী ঢাকায়
৩২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

### নিহতদের পেশাগত পরিচয়

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ১ জন, শিক্ষক ১১ জন, সাংবাদিক ৪ জন,
আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ১৪ জন, এনজিও কর্মী ১৭ জন, রাজনৈতিক
দলের নেতাকর্মী ৩৪ জন, ব্যবসায়ী ২৩ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৯ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন,
নি[র্মাণ শ্রমিক ৪](http://ফেব্রুয়ারিতে দেশে ৫১৭ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৪৩২, বেশি প্রাণহানি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়)
জন এবং শিক্ষার্থী ৬১ জন।

### দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা
ও অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের
বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন
খাতে চাঁদাবাজি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

### সুপারিশ

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ট্রাফিক আইন
কঠোরভাবে প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং গণপরিবহনে 
চাঁদাবাজি বন্ধের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল ১৫ দশমিক
৭০ জন। ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪২ জনে। অর্থাৎ প্রাণহানি কমেছে
মাত্র ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে এটি সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোনো টেকসই উন্নতির ইঙ্গিত দেয় না
বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
