bogra times
ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

বগুড়ায় অবৈধ সিগারেট কারখানায় সেনাবাহিনীর হানা: ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম জব্দ

বগুড়া প্রতিনিধিঃ-
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি বিশাল অবৈধ সিগারেট কারখানার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল ও তামাকসহ প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে অভিযান শেষে কারখানাটি সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ ও লেফটেন্যান্ট আল ফাহাদের নেতৃত্বে সোমবার দিবাগত রাত ২টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উপজেলার খয়রাপুকুর এলাকায় শাহিনুর রহমানের মালিকানাধীন ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, নামহীন ওই কারখানায় কাঠের গুঁড়া মিশ্রিত তামাক দিয়ে ১৪টি নামী-দামি ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরি করা হচ্ছিল।

জব্দকৃত মালামালের তালিকা:

  • যন্ত্রপাতি: প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম।

  • ব্যান্ডরোল: ১৫ লাখ টাকার নকল ব্যান্ডরোল।

  • মোড়ক: ১০ লাখ টাকার ভুয়া মোড়ক।

  • তামাক: ১০ মণ ভেজাল ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ তামাক।

কারখানাটি তল্লাশির সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কারখানার রেজিস্টার ও স্টক খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেখানে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোর্শেদা আলমের নিয়মিত স্বাক্ষর রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত যাতায়াত ও প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চলছিল। এ বিষয়ে উপস্থিত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন কুমার সেন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

অভিযানের সময় কারখানার মালিক শাহিনুর রহমান পালিয়ে গেলেও পাঁচ শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই শ্রমিকদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করার নির্দেশ দেন।

ইউএনও জিয়াউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। জব্দকৃত মালামাল আগামী বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হবে।”

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কীভাবে এত বড় জালিয়াতি চক্র এতদিন সক্রিয় ছিল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল কাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।