ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ এখনো বগুড়ার আকাশে-বাতাসে লেগে আছে। গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, মজাদার খাবার আর ঈদের স্মৃতি নিয়ে অনেকেই এখনো উৎসাহে ভাসছেন। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও কর্মস্থলের ডাক অনেকের জন্য এসে পড়েছে অনিবার্য সত্য হয়ে। যদিও এবার ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার চারমাথা, ঠনঠনিয়া, তিনমাথা, মাটিডালি, বনানী ও শেরপুরের ঢাকা বাস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকেই দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে। ঢাকাগামী বাসগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের চাপ বেড়েছে শহরের রেলস্টেশনেও। বিশেষ করে ( বুধবার ২ এপ্রিল) থেকে প্রায় সব ধরনের যানবাহনে ঠাসাঠাসি অবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রেন ও বাসের টিকিট পাওয়াও হয়ে উঠছে বেশ কঠিন, অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ভোগান্তিতে পরে অনেককেই বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বগুড়া ও শেরপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা জানান, ঈদের আমেজ আরেকটু ধরে রাখতে ইচ্ছে করলেও, জীবিকার তাগিদে ফিরতে হচ্ছে। তবে বাস ও ট্রেনের ভাড়া অনেক বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানান।
বগুড়া ঠনঠনিয়া বাস্ট্যান্ডে যাত্রি রহিম মিয়া জানান, প্রতিবার ঈদে গ্রামে আসি, কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় মনটা ভারী হয়ে যায়। তবু কাজ তো ছাড়া যায় না।
কথা হয় শেরপুরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রি সহেলের সাথে তিনি জানান, এখনকার বাসগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বেশি, তবে কোনো উপায় নেই, কাজে ফিরতে হবে। ঈদের পরের দিনগুলো সবসময় একটু অস্থিরই লাগে, তবে এবার রাস্তা যানজট মুক্ত থাকায় দ্রুত ঢাকা যেতে পারবো বলে মনে হচ্ছে।
বাস কাউন্টারগুলো জানায়, সকাল থেকেই ঢাকাগামী বাসগুলোতে যাত্রীদের প্রচুর চাপ রয়েছে। ঈদের পর কর্মস্থলে যোগ দিতে যাত্রীরা ঢাকা ফিরছেন। পর্যাপ্ত বাস থাকায় যাত্রিরা নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে যেতে পারছেন।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের একজন জানান, ঈদের পর যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস আছে। কেউ যাতে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেদিকে নজর রাখছি।
তবে অনেকেই আশা করছেন, ধীরে ধীরে পরিবহন সেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং যাত্রীদের চাপ কমে যাবে।