
বগুড়ায় মোটরসাইকেল চুরির এক সক্রিয় চক্রের জালে ধরা পড়েছে সাতজন। একটি মাত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে শুরু হওয়া অভিযানে পুলিশ উদ্ধার করেছে ছয়টি চোরাই ও ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হান উদ্দিন মোরাদ বুধবার বিকেলে বগুড়া সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, এরা শুধু চোর নয়—চুরি ও কেনাবেচার এক সংগঠিত নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য।
ঘটনার সূত্রপাত ২৪ জুলাই গভীর রাতে। বরিশাল সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের নিরাপত্তাকর্মী খোরশেদ আলম রাজশাহী থেকে মোটরসাইকেলে রংপুর যাচ্ছিলেন। ভোর পৌনে চারটার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান। পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তার বাজাজ ডিসকাভার ১০০ সিসি মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। দুদিন পর ২৮ জুলাই তিনি সদর থানায় মামলা করেন। সেই মামলাই খুলে দেয় এক বড় চক্রের দরজা।
মামলার পর সদর থানার একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। বুধবার দুপুরে গাবতলীর বাগবাড়ী বাজার থেকে গ্রেফতার হন লাল মিয়া (২৫) ও মাসুম (২৬)। তাদের দেওয়া তথ্যেই ধরা পড়েন শাজাহানপুরের রহিমাবাদ গ্রামের লিটন (২২) ও বড়পাথার এলাকার মিলন (৩০)। পরে বি-ব্লক এলাকা থেকে ধরা হয় মোহাম্মদ আলীকে (২৮)। অপর দুজনের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাদের কাছ থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন একাধিক মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়।
উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলো দেখানোর পর এক ভুক্তভোগী নিজের গাড়ি শনাক্ত করেন। তিনি নাহান বাশার খান নাদিম, একটি সিগারেট কোম্পানির কর্মী। ২৬ জুলাই ভোরে গাইবান্ধা থেকে বগুড়া আসার পথে গোকুল ঈদগাহ মাঠের কাছে তিন ব্যক্তি তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে তার বাজাজ ডিসকাভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশের দাবি, এই ছয়টি মোটরসাইকেলই একই চক্রের হাত ঘুরেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন মোরাদ বলেন, “একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের অভিযানে ছয়টি চোরাই ও ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। গ্রেফতার সাতজন মোটরসাইকেল চুরি ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।” তিনি জানান, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা আছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বগুড়ার এই অভিযান শুধু কয়েকটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের গল্প নয়। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, মহাসড়কের পাশে এক মুহূর্তের অসতর্কতা থেকে শুরু করে ছিনতাই, চুরি এবং অবৈধ কেনাবেচা—সবই একই নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। পুলিশ এখন সেই নেটওয়ার্কের আরও শাখা খুঁজছে।