শীত কমে বাড়ছে গরম, এর সাথে বাড়ছে নানা ধরনের রোগের প্রকোপ। সর্দি, জ্বর, কাশি এবং চুকানি যেন সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য। সঙ্গে যোগ হয়েছে গরমের কারণে অতিরিক্ত দুর্বলতা ও শারীরিক অস্বস্তি।
একাধিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহে শহর ও গ্রামাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায়, তাদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, গা-ব্যথা, চুকানি এবং শিশুদের ডায়রিয়াজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাচ্চার চিকিৎসা নিতে আসা নাজমা বেগম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সে জ্বরে ভুগছে, সর্দি-কাশিও বেড়ে গেছে। তাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছি।
উপজেলার মির্জাপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন জানান, ডায়রিয়া আর গা-ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ডাক্তার সাহেব ঔষধ দিয়েছেন, আশা করছি দ্রুত সুস্থ হবো।”
ডা. আ. ন ম গোলাম হামিম জানান, শীতের প্রভাব হঠাৎ কমে যাওয়া এবং গরমের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশি এবং ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের রোগ ছড়াচ্ছে।এসব রোগের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন এবং দ্রুত চিকিৎসা নিলে প্রতিকার পাওয়া যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, শীতকাল থেকে গরমকালের দ্রুত পরিবর্তন হলে ভাইরাল ইনফেকশন, সর্দি-কাশি, জ্বর এবং চুলকানির মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছি এবং লোকজনকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, আমরা স্থানীয় জনগণকে হালকা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে এবং হাত ধোয়া, স্যানিটেশন বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছি।
এদিকে, শীত এবং গরমের এই পরিবর্তনকে স্থানীয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষকে আরও সচেতন হতে ডাক্তাররা পরামর্শ দিচ্ছেন।