
প্রতিবেদক, বগুড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের কার্যালয় থেকে ৩৪ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে জেলায় নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক গ্রহণ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দলের শীর্ষ নেতা এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বগুড়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শহরজুড়ে ধানের শীষের স্লোগান ও মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
শিবগঞ্জ (বগুড়া-২) আসনে নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও নাগরিক ঐক্য—উভয় দলের প্রার্থীই নির্বাচনের মাঠে থাকছেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না পেয়েছেন ‘কেটলি’ প্রতীক। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম লড়ছেন দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই শিবগঞ্জ আসনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলাটিতে এবার জামায়াত তাদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিতে মরিয়া। এছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মোট আসন সংখ্যা: ৭টি।
মোট প্রার্থী: ৩৪ জন।
মোট ভোটার: ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন।
ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে পারবেন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।