
বগুড়া প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে বগুড়ার কাহালু উপজেলায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে স্বস্তির বার্তা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রির এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সূচনা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় কাহালু উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চত্বরে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাশপিয়া তাসরিন। উদ্বোধনী দিনেই মিলল স্বস্তির হাতছানি—প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করা হয় মাত্র ৬৫০ টাকায়।
উদ্বোধনের পরপরই প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় ক্রেতাদের ছোট্ট একটি লাইন। অনেকেই জানালেন, বাজারে মাংসের দাম সাধারণত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি থাকলেও এই উদ্যোগে ১৫০ টাকার মতো সাশ্রয় হচ্ছে তাদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল মালেক জানান, পুরো রমজান মাসের প্রতি শুক্রবার এই সুলভ মূল্যের মাংস পাওয়া যাবে। তবে সবার কাছে পৌঁছে দিতে ও মজুতদারি রোধে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজির বেশি মাংস কিনতে পারবেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাশপিয়া তাসরিন বলেন, "রমজানে নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব করতে এই উদ্যোগ। আমরা চাই, পবিত্র এ মাসে কেউ যেন দুশ্চিন্তায় না থাকে। যদি গরু পর্যাপ্ত পাওয়া যায়, তবে সপ্তাহের অন্য দিনেও এ কার্যক্রম বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।"
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। তারা জানান, মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত করতেই বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
শুধু মাংস বিক্রি নয়, বরং যেন এক অন্যরকম উদযাপন। সরকারি উদ্যোগ হলেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় চত্বর। প্রতিবেশী ইউনিয়ন থেকেও অনেকে খোঁজ নিতে আসেন—আমরাও কি এখান থেকে মাংস কিনতে পারব?
প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত গরু ও সাড়া পেলে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে। সেটাই এখন দেখার।