
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতা, দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শেরপুর উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। উপজেলার ২৩০টি মৌজায় প্রতিবছর গড়ে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার দলিল নিবন্ধন হয়। জমি কেনাবেচার দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপজেলার মানুষকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় অফিসটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সেবা নিতে আসা মানুষকে ভোগান্তি ও সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম ফেরদৌস বলেন, বর্তমানে ধুনট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা সিদ্দিকা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার, শেরপুরে এসে দলিল নিবন্ধন করেন। সীমিত সময়ে কাজ হওয়ায় সব দলিল নিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দাতা ও গ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেককে দলিল নিবন্ধনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া দলিল গ্রহীতা আব্দুল কাদের বলেন, স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় অফিসের নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিবন্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এর ফলে দলিল দাতা-গ্রহীতা, আইনজীবী ও দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। দ্রুত একজন যোগ্য ও স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা প্রয়োজন।
এদিকে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবিতে শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে জনভোগান্তিও দিন দিন বাড়ছে। জনস্বার্থে দ্রুত একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন বা নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা রেজিস্ট্রারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত নিবন্ধন কার্যক্রম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। তাই দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকট দ্রুত সমাধান করা দরকার। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দ্রুত একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের ব্যবস্থা করবে।