উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ভোটারদের রায়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে বিজয়ী হয়েছেন গোলাম মোঃ সিরাজ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৫১২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে গোলাম মোঃ সিরাজ মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দবিবুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে শেরপুর উপজেলার ৯৯টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩২ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৮৮ হাজার ৮৫২ ভোট। অপরদিকে ধুনট উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৮০৯ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৫৪ হাজার ৪৭৭ ভোট।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি মনোনীত খান কুদরত-ই-সাকলায়েন ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১২৮ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মীর মো. মাহমুদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৪০ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত শিপন কুমার রবিদাস কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৭৪ ভোট।
এই বিজয়ের মাধ্যমে গোলাম মোঃ সিরাজ বগুড়া-৫ আসন থেকে চতুর্থবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ এবং ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে জয়লাভ করেন। এছাড়া ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় ভোটারদের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক ভোটার নিজ এলাকায় এসে ভোট প্রদান করেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয় লাভ করেছে। শেরপুর উপজেলার ৯৯টি কেন্দ্রে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ২৫১ ভোটারের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৪টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৩ হাজার ২৭৭টি।