
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন ভোটার ও প্রার্থীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ফলাফল ঘোষণার দিকে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে অনেক ভোটারের মাঝেই ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। ভোর থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে দেখা যায়। অনেকেই ফজরের নামাজ আদায় শেষে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সকাল ৯টায় ধনকুন্ডি শাহনাজ সিরাজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পুত্র আসিফ সিরাজ রব্বানী, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কতটা আগ্রহী। আশা করি জনগণ তাদের রায় সুষ্ঠুভাবে প্রকাশ করবে।”
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. দবিবুর রহমান সকাল ৮টায় খামারকান্দি ইউনিয়নের শুভগাছা দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দলীয় নির্দেশনার কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল এবং পুরো সময়জুড়ে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় পর এমন শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ফলাফল নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।