
ক্রীড়া প্রতিবেদক |
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২৬ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে ৪৮টি দল। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ায় ছোট দেশগুলোর সামনে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বমঞ্চে খেলার নতুন দুয়ার। আর এই সম্ভাবনার তালিকায় ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো সরাসরি নাম নিয়েছেন বাংলাদেশের। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে লাল-সবুজের দেশটিকেও একদিন ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা সম্ভব।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ নিয়ে এই ইতিবাচক মন্তব্য করেন ফিফা প্রধান। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি সরাসরি লেখেন, “হ্যাঁ, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারে।”
ইনফান্তিনো উল্লেখ করেন যে, ফিফার মূল লক্ষ্যই হলো ফুটবলকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে দলের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেক দেশেরই স্বপ্ন পূরণের পথ সহজ হয়েছে। তিনি জর্ডান, উজবেকিস্তান, কেপ ভার্দে ও কুরাসাওয়ের মতো দেশগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, যদি তারা উন্নতি করতে পারে, তবে যে কারো জন্যই দরজা এখন উন্মুক্ত।
বাংলাদেশ বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বেশ পিছিয়ে থাকলেও হাল ছাড়ছেন না ফিফা সভাপতি। তবে কেবল স্বপ্নের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি তিনি, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর বিশ্বকাপে পৌঁছানোর জন্য চারটি বিশেষ দিকের ওপর জোর দিয়েছেন:
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: ফুটবল উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা।
বয়সভিত্তিক কাঠামো: শক্তিশালী যুব ও একাডেমি দল গঠন করা।
কোচিং স্ট্যান্ডার্ড: বিশ্বমানের প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে ফুটবলারদের মানোন্নয়ন।
আন্তর্জাতিক ম্যাচ: নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করা।
বর্তমানে ফিফার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির (যেমন- ফিফা ফরওয়ার্ড প্রোগ্রাম) আওতায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ইনফান্তিনোর বার্তা পরিষ্কার—সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ফিফা, এখন সেই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব দেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং সংশ্লিষ্ট কাঠামোর।
ইনফান্তিনোর এই মন্তব্য দেশের ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে। যদিও বাস্তবতা এবং র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে পথটি বেশ কঠিন, তবে ফিফা প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য সমর্থন দেশের ফুটবলের জন্য বড় একটি স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।