# বাব আল-মান্দাব অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘দুঃস্বপ্ন’ হতে পারে: বিশেষজ্ঞ

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d/
- Published: 2026-03-28T22:43:47+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**আন্তর্জাতিক ডেস্ক:** ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা যদি লোহিত সাগরের কৌশলগত
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালী অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা বিশ্ব
অর্থনীতির জন্য একটি ‘নাইটমেয়ার’ বা দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক 
বিশেষজ্ঞ এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্টন কলেজের প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ কেন্ডাল
এই হুশিয়ারি দিয়েছেন।

সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েলের দিকে হুথিদের ছোঁড়া
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারলেও, তাদের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার
সম্ভাবনা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

### বিশ্ব বাণিজ্যের ‘গেম চেঞ্জার’

কেন্ডাল ব্যাখ্যা করেন, বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হচ্ছে লোহিত সাগর।
বিশেষ করে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য
পথ। হুথিরা যদি বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং একই সময়ে পারস্য উপসাগরের
হরমুজ প্রণালীতেও কোনো সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, তবে ইউরোপের সঙ্গে এশিয়াসহ বাকি বিশ্বের
বাণিজ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।

তিনি একে ‘গেম চেঞ্জার’ এবং ‘ছুরিধার অবস্থানে’ থাকার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি অত্যন্ত
সংকীর্ণ নৌপথ, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে
বিবেচিত।

### হুথিরা কেন পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করছে না

কেন হুথিরা এখনই পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে না, তার একটি বিশ্লেষণও দিয়েছেন এই 
বিশেষজ্ঞ। কেন্ডালের মতে, হুথিরা সম্ভবত একটি ‘সুইট স্পট’ বা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
তারা যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে, কিন্তু এমন কিছু করছে
না যাতে সরাসরি সৌদি আরব বা বড় কোনো আঞ্চলিক শক্তির পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।

তিনি ধারণা করেন, হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে অলিখিত কোনো সমঝোতা থাকতে পারে। হুথিরা যদি
সৌদি আরবের তেল সরবরাহ এবং লোহিত সাগরের নৌ-চলাচল ব্যাহত না করে, তবে সৌদি আরবও সরাসরি
এই যুদ্ধে জড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করবে না।

### বিশ্ববাজারে প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুথিরা বর্তমানে যুদ্ধের মাঠ গরম রাখলেও এখন[ই বড় কোনো](https://dailybogratimes.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d/)
সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর
উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

যদি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা
ভেঙে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের
প্রায় ১০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়।

### ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলের
সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে হুথিরা। সম্প্রতি তারা তাদের হামলার 
পরিধি আরও বাড়িয়েছে। হুথি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ 
না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অভিযান চালিয়ে যাবে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’
নামে একটি নৌ-জোট গঠন করলেও এখন পর্যন্ত হুথিদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি তারা।
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
