ডেস্ক প্রতিবেদক | ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
আইসিসির সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়লেও বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনি লড়াই বা সালিশি (আরবিট্রেশন) প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মিরপুরে আয়োজিত বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ভাগ্য নিয়ে গত কয়েকদিনের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল।
আইনি পদক্ষেপ কেন নয়?
আইসিসির বোর্ড সভায় ১৪–২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত আসায় শুরু থেকেই এটি চ্যালেঞ্জ করার আইনি ভিত্তি নিয়ে সংশয় ছিল। বোর্ড সভা শেষে বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“আমরা আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। যেহেতু আইসিসি জানিয়েছে আমরা খেলতে পারব না এবং ভেন্যুও পরিবর্তন করা হবে না, তাই আমাদের পক্ষে ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। আমরা কোনো ধরনের আইনি বা সালিশি পথে হাঁটছি না।”
সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
এর আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করেছিলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি মূলত বাংলাদেশ সরকারের। বিসিবিও সেই একই অবস্থানে অটল রয়েছে। আমজাদ হোসেন বলেন, আইসিসি বোর্ড সভার পর সরকারের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করবে না।
তিনি আরও যোগ করেন, “আইসিসি আমাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থান জানাতে বলেছিল। আমরা সরকারকে সম্মান জানিয়ে বিনয়ের সঙ্গে তাদের জানিয়ে দিয়েছি যে, এই ফিক্সচার অনুযায়ী আমাদের পক্ষে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বাস্তবতা
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়ার পর সমর্থক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই দাবি তুলেছিলেন বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে নেওয়ার। তবে ১৪–২ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আপত্তির কারণে বিসিবি শেষ পর্যন্ত আইসিসির ঘোষণাকেই মেনে নেওয়ার পথে হাঁটল।
ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি আর দেখা যাচ্ছে না, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও হতাশাজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।