
সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে পুনরায় শুরু হয়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম।
এর আগে ছুটির কারণে দুই দিন আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছে। এতে বন্দরে পণ্যজটও সৃষ্টি হয়। তবে রোববার থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে সেই পণ্যজট।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি, রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটি ও ২১শে ফেব্রুয়ারির সরকারি ছুটি শেষে পুনরায় এ পথে আমদানি-রফতানিসহ সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত বন্দর থেকে পণ্য খালাস নিতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি এবং প্রায় ২০০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। এছাড়া বন্দর থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য খালাস হয়ে থাকে। আমদানি পণ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়।
যদিও বেনাপোল বন্দরে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা চালুর কথা রয়েছে, তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অনেক সময় আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
বন্দরের তথ্য বলছে, রোববার সকাল ৯ টা থেকে আমদানি রফতানি শুরু হয়েছে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভারত থেকে ৭২ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি ও ২৭ ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে।
আমদানি পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, গার্মেন্টস, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, বিভিন্ন প্রকারের ফল, মাছ ও অক্সিজেন। রফতানি পণ্যের মধ্যে ছিল কেমিকেল, মাছ, বসুন্ধারা টিস্যু, ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী।