# বেনাপোল সীমান্তে জ্বালানি তেলের ‘হুজুগ’: সংকটের আতঙ্কে পাম্পে দীর্ঘ লাইন

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be-2/
- Published: 2026-03-08T23:18:45+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সংকটের আশঙ্কায় যশোরের শার্শা
ও বেনাপোল অঞ্চলে পেট্রোল-অকটেন কিনতে পাম্পগুলোতে ভোক্তাদের দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে।
সরকার পর্যাপ্ত মজুতের আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘হুজুগ’ বা প্যানিক কিনতে
দেখা যাচ্ছে না থামছে না। এর ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল
ও প্রাইভেট কার চালকরা।

শনিবার ও রবিবার (৭ ও ৮ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল
ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি। চাহিদা এতটাই বেড়ে গেছে যে, পেট্রোল-অকটেনের মজুত দ্রুত
শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ 
রাখার অভিযোগ উঠেছে। আবার কোনও কোনও পাম্পে মাত্র ১০০ টাকার তেল বিক্রির বিধিনিষেধ 
জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহ সংকটের কারণে বেনাপোল ফিলিং স্টেশন, মিলন ফিলিং স্টেশন, 
তনিমা ফিলিং স্টেশন এবং হক ফিলিং স্টেশনসহ এলাকার অধিকাংশ পাম্পই অর্ধেক বন্ধ অবস্থায়
রয়েছে। গত দুই দিন ধরে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতির
সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোগান্তির শিকার একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানান, পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে এক পাম্প
থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন কিন্তু তেল পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রিপন হোসেন বলেন,“
দুটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরব কীভাবে তা বুঝতে
পারছি না।” আরেক বাইক চালক সিয়াম আহমেদ বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে তেলের জন্য এভাবে 
এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘোরাঘুরি করা খুবই কষ্টদায়ক।”

এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, গত চারদিন[ ধরে স্বাভাবি](https://dailybogratimes.com/%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be-2/)
কের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায়
সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে 
পারছে না কেউ।

তনিমা ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শুক্রবার ও শনিবার কোম্পানি 
থেকে তেল সরবরাহ না আসায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। তিনি বলেন, “পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সাধারণত
রোববার আসে। আজ আসবে কিনা জানি না। তবে দেশে পেট্রোল বা অকটেনের প্রকৃত সংকট নেই, কিন্তু
দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। বাইরের দেশ থেকে ডিজেল আমদানি হয়, যুদ্ধ চলতে থাকলে ডিজেলের
সংকট হতে পারে। এই আশঙ্কায় মানুষ পাম্পে ভিড় করছে।”

জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি যশোর জেলার সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বিষয়টিকে ‘প্যানিক
ক্রাইসিস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “স্রেফ প্যানিক থেকে মানুষের মধ্যে তেল মজুদ করার
প্রবণতা শুরু হয়েছে। দেখা গেছে, যে বাইক চালক আগে অর্ধেক বা এক লিটার তেল কিনতেন, তিনিও
এখন বাইকের ট্যাংকি পুরো ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ক্যান বা ড্রাম নিয়েও পাম্পে ভিড় 
করছেন। এতে করে প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম
সংকট।”
