
ডেস্ক প্রতিবেদক | ঢাকা ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স ছিনতাই বা কোনো ধরনের কারচুপি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, এমন ঘটনা ঘটলে শুধু অপরাধী নয়, সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, "প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করা চলবে না। কাউকে তোষামোদ বা তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি কর্মচারী হিসেবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।" এবারের নির্বাচন বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি শেরপুরে নির্বাচনী সংঘাতের জেরে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "অপরাধীদের গ্রেফতারে কিছুটা সময় লাগলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।" তিনি মন্তব্য করেন যে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা ব্যক্তিগত বিরোধ যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তা থামানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নির্বাচনের দিন যেন এমন পরিস্থিতি না ঘটে, সেজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবারই প্রথম তৃণমূল পর্যায়ে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একে 'শঙ্কার কারণ' নয় বরং 'সেবা' হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন:
বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
সেনাবাহিনীসহ সকল নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হবে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করবে।
পরিশেষে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।