bogra times Add
ঢাকাসোমবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৬

ভোট জালিয়াতির ব্লু-প্রিন্ট: ২০০৮ থেকে ২০২৪, তদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ৯:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্ক | বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনিয়মের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরপরই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই ‘অভিনব’ কারচুপির ছক তৈরি করা হয়, যা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়েছিল প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিশন।

প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ:

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে গত তিনটি নির্বাচনের পাশাপাশি ২০০৮ সালের নির্বাচনকেও ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কমিশনের উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • পরিকল্পিত জালিয়াতি: তদন্তে উঠে এসেছে যে, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে সাজানো প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

  • প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়: এই জালিয়াতি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশকে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সংবিধানের গণতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

  • অপ্রতুল সময় ও বিশাল অনিয়ম: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী অনিয়মে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত ছিলেন। তদন্তের জন্য বরাদ্দকৃত সময় কম হওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে প্রত্যেকের নাম ও ভূমিকা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

  • ২০০৮ সালের নির্বাচন তদন্ত: কমিশন ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং এটি নিয়েও বিশদ তদন্ত করার জোর সুপারিশ জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের বক্তব্য

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সভাপতি হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনসহ অন্য সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা জানান, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করা এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সদস্য শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক, আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এ সময় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচন’ নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

কমিশনের এই প্রতিবেদন ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুত্র- প্রথম আলো