
গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার টন। আমদানি কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়েছে পণ্যটির দামে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সাতক্ষীরার খুচরা বাজারে শুকনা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতের বাজারে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোমরা বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচের আমদানি কমেছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলাপণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাতেমা স্টোরে গতকাল প্রতি কেজি শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগেও ছিল ৩৬৫-৩৭০ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল আজিজ জানান, বন্দরে শুকনা মরিচ আমদানি কমে যাওয়ায় পাইকারিতে দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারেও পণ্যটির দাম বেড়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এ বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৩০৯ টন, যার মূল্য ৯৪৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূল্যের ৩৯ হাজার ২১২ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছিল।
এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে ৪ হাজার ৯০৩ টন, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ২০ শতাংশ কম।
ভোমরা স্থলবন্দরের মসলাপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, ভারতের মোকামে সরবরাহ কম থাকায় সেখানকার বাজারে শুকনা মরিচের দাম বেড়ে গেছে। ফলে আমদানি করে লাভ কম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি কমিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময় পণ্যটি আমদানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ জানান, আমদানিনির্ভর যেকোনো পণ্যের সরবরাম ঘাটতি থাকলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ে। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়লে শুকনা মরিচের দাম কমে আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।