সাতক্ষীরা, ১৯ মার্চ, ২০২৬: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আমদানি বেড়েছে ৭২৯ টন। তবে আমদানি বৃদ্ধির এ ধারা স্থানীয় বাজারে জিরার দাম কমাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এ বন্দর দিয়ে মোট ২ হাজার ২৮৮ টন জিরা আমদানি করা হয়েছে, যার মোট মূল্য ৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫৫৯ টন জিরা আমদানি হয়েছিল। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে জিরা আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ।
দেশীয় বাজারে জিরার চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই এ আমদানি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। ভোমরা বন্দরের অন্যতম মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক বলেন, 'বাজারে জিরার ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমরা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে আমদানি করছি।'
তবে আমদানির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা খুচরা বাজারে এখনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড়বাজারের মেসার্স ফতেমা স্টোরে গতকাল খুচরা পর্যায়ে ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৬৮০ টাকা এবং ইরানি জিরা ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এক মাস আগেও জিরা একই দামে বিক্রি হয়েছে।
মেসার্স ফতেমা স্টোরের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, 'বন্দরে আমদানি বাড়ার খবর পাচ্ছি, কিন্তু পাইকারি বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ফলে খুচরা বাজার আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে।'
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আবদুল্লাহ বলেন, 'বন্দরে আমদানি বাড়ার পরও বাজারে জিরার দাম না কমার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। কেন এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু আমদানি বাড়লেই বাজারদর কমে না। পাইকারি পর্যায়ে মজুত, পরিবহন খরচ, সিন্ডিকেট ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামাসহ নানা কারণ খুচরা বাজারকে প্রভাবিত করে।