মদিনা মুনাওয়ারা, ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর, মুসলমানদের জন্য এক অমূল্য স্থান। এখানে অবস্থিত মসজিদে নববী এবং রাসূল (সা.)—এর রওজা মুবারক বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য আধ্যাত্মিক শান্তির উৎস। মদিনা সফর শুধু শারীরিক ভ্রমণ নয়, এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।
মদিনায় পৌঁছানো:
মদিনা পৌঁছানোর সাথে সাথে শহরের ভেতর ছড়িয়ে থাকা পবিত্রতার অনুভূতি প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ প্রথমেই চোখে পড়ে। যেখানে নবী (সা.)—এর রওজা মুবারক শায়িত। এখানে পৌঁছানোর পর একটি অদ্ভুত শান্তির অনুভূতি সবার মধ্যে বিরাজ করে।
মসজিদে নববী এবং রওজা মুবারক:
মসজিদে নববী পৃথিবীর একমাত্র মসজিদ যেখানে রাসূল (সা.)—এর রওজা মুবারক অবস্থিত। এটি মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, বরং আধ্যাত্মিক শান্তির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে পৌঁছে প্রত্যেক মুমিন আল্লাহর রহমত এবং নবী (সা.)—এর শাফায়াতের আশায় দোয়া করে। রাসূল (সা.)—এর পাশে হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত ওমর (রা.)—এর কবর অবস্থিত। এখানে আসা প্রতিটি মুসলমানের জন্য এক অভূতপূর্ব অনুভূতি সৃষ্টি করে।
রিয়াজুল জান্নাহ:
মসজিদে নববীর ভেতরে রিয়াজুল জান্নাহ নামক একটি বিশেষ স্থান রয়েছে, যা জান্নাতের একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়। এটি একটি পবিত্র স্থান, যেখানে দাঁড়িয়ে মুসলমানেরা জান্নাতের শান্তির অনুভূতি লাভ করেন। এখানে দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, যা সফরকারীদের অন্তরে এক অদ্ভুত শান্তি এবং পবিত্রতা সঞ্চারিত করে।
জান্নাতুল বাকী:
মদিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান হল জান্নাতুল বাকী, যেখানে ইসলামি ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যেমন হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত ফাতিমা (রা.) শায়িত আছেন।
মসজিদে কুবা: মসজিদে কুবা মদিনা শহর থেকে কিছুটা বাইরে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রামে, যার নাম ছিল “কুবা”। এটি বিশ্বের প্রথম মসজিদ, যা হযরত মুহাম্মদ (সা.)- নির্মাণ করেছিলেন। হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুবা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়বে, তাকে এক পূর্ণ হজ ও উমরার সওয়াব দেওয়া হবে।”
(ইবনে মাজাহ)
মদিনা সফরের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে বিশেষ দোয়া পড়া হয়ে থাকে। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া উল্লেখ করা হলো: