
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব ও বাহরাইনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে। তেহরান জানিয়েছে, এসব হামলা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হলেও বেশির ভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে দূতাবাসটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে তাদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। রাজধানী কুয়েত সিটির দক্ষিণের একটি বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণ ও আগুনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুরো কুয়েতজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাতারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জলসীমায় আছড়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হওয়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় দুটি হোটেল ও একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে, তারা ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
উপসাগরীয় এই অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজার অস্থির হয়ে উঠেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।