bogra times Add
ঢাকাশুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ধাক্কা মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের জরিপ শুরু

নিউজ ডেস্কঃ-
মার্চ ৬, ২০২৬ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্কঃ-: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই সমীক্ষার লক্ষ্য হল, আসন্ন আর্থিক চাপ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করা।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই জরিপ কার্যক্রম শুরু করেন। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত প্রভাব ও সম্ভাব্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা তুলে ধরা হবে।

সংকটের মূল কারণ ও তাৎক্ষণিক প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি অবস্থান ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে শত শত মানুষ প্রাণ হারায়।

এরই অংশ হিসেবে ইরান বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস বহনকারী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি, কাতারসহ বেশ কয়েকটি প্রধান এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ নিরাপত্তার অজুহাতে উৎপাদন ও সরবরাহ স্থগিত করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের জন্য হুমকি

বাংলাদেশ তার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এলএনজি ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য মূলত কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এই সংকটের কারণে:

১. মূল্য বৃদ্ধি: হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
২. সরবরাহ সংকট: মূল উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় নতুন করে পণ্য সংগ্রহ করা যেমন দুষ্কর হচ্ছে, তেমনি অত্যন্ত উচ্চমূল্যে তা কিনতে হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা

অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ টেনে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ শৃঙ্খল পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এবং যা পাওয়া যাবে, তার জন্য আমাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বিরাট চাপ পড়বে।”

এই চাপ মোকাবিলায় অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

  • চাহিদা নিরূপণ: জ্বালানি বিভাগ থেকে দেশের জ্বালানি তেল ও এলএনজির বর্তমান চাহিদা এবং মজুতের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

  • বিকল্প উৎস অনুসন্ধান: এলএনজি ও জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস এবং সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা মূল্যায়নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • আর্থিক পরিকল্পনা: সরকারকে এই সংকট মোকাবিলায় কত অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন হবে এবং তা কোন কোন খাত থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে, তার একটি রূপরেখা প্রস্তুত করা হবে।

আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।