স্পোর্টস প্রতিবেদক |
আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের (আফকন) ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় এক ফাইনালের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। স্বাগতিক মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখল সেনেগাল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে রাবাতের প্রিন্স মৌলে আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফুটবলের সব রোমাঞ্চ, বিতর্ক আর নাটকীয়তা যেন একই সুতোয় গেঁথেছিল।
নাটকীয়তার শুরু ও রেফারির সিদ্ধান্ত
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা যখন গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় আসল নাটক। ইনজুরি টাইমের শেষ দিকে ডি-বক্সের ভেতর রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ভিএআর (VAR) দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। প্রতিবাদে কোচ পাপ ঝাও তার খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর সাদিও মানের হস্তক্ষেপে খেলোয়াড়রা পুনরায় মাঠে ফেরেন।
ব্রাহিম দিয়াসের সেই 'ভয়াবহ' ভুল
মরক্কো যখন শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখনই ট্র্যাজিক হিরোতে পরিণত হন ব্রাহিম দিয়াস। পেনাল্টি নিতে এসে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে 'পানেনকা' শট নিতে যান। কিন্তু সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি বুদ্ধিমত্তার সাথে জায়গা না ছেড়ে বলটি তালুবন্দী করেন। এই পেনাল্টি মিসের পরই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
পাপ গেয়ির জয়সূচক গোল
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯৪ মিনিটে) ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন পাপ গেয়ি। ইদ্রিসা গেয়ির বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সের কোনা থেকে এক দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে মরক্কোর জালে বল জড়ান তিনি। পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে যায়। ম্যাচের বাকি সময় মরক্কো মরিয়া হয়ে আক্রমণ করলেও সেনেগালের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মেন্দিকে পরাস্ত করতে পারেনি।
একনজরে আফকন ২০২৫-এর পুরস্কার ও পরিসংখ্যান:
পুরস্কারের নাম বিজয়ীর নাম
চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল (২য় শিরোপা)
রানার্স-আপ মরক্কো
টুর্নামেন্ট সেরা (গোল্ডেন বল) সাদিও মানে (সেনেগাল)
সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) ব্রাহিম দিয়াস (মরক্কো, ৫ গোল)
সেরা গোলরক্ষক (গোল্ডেন গ্লাভস) ইয়াসিন বুনু (মরক্কো)
অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হলো মরক্কোর
নিজেদের মাঠে ফাইনাল খেলেও ১৯৭৬ সালের পর দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো 'অ্যাটলাস লায়ন' মরক্কোর। অন্যদিকে, ২০২১ সালের পর ২০২৫-এ এসে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা জয় করল সেনেগাল। ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকাররা সেনেগালের এই জয়কে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মেন্দির অসাধারণ ধৈর্যের ফসল হিসেবে অভিহিত করেন।