শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
ফাল্গুনের শুরুতেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আমবাগানগুলো মুকুলে ভরে উঠেছে। হালকা বাতাসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে পুকুরপাড় ও বাণিজ্যিক বাগান—সবখানেই এখন মুকুলের সমারোহ। এতে ফলন নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষিরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দেশি গুটি আমের পাশাপাশি আম্রপালি, ল্যাংড়া, ফজলি, বারি-৪, ক্ষিরষাপাতি ও হাড়িভাঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত ও বিদেশি জাতের গাছেও সমানতালে মুকুল দৃশ্যমান।
দেশের আম উৎপাদনে শীর্ষে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা ও নওগাঁ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমচাষ বেশি হলেও বগুড়া অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে বড় পরিসরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেরপুরে নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শেরপুর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উন্নত ব্যবস্থাপনায় চাষাবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মুকুলের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি। মুকুল আসার ৩০ থেকে ৪৫ দিন আগে সেচ বন্ধ রাখতে হয়। মুকুল ফোটার আগে ও পরে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করা প্রয়োজন। মুকুল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফোটা অবস্থায় এবং গুটি মটরদানার মতো হলে কীটনাশক প্রয়োগ করলে হপার পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই অনেকটাই কমানো যায়।
স্থানীয় কয়েকজন আমচাষী জানান, এ বছর শীতের তীব্রতা কম থাকায় মুকুল আসতে তেমন সমস্যা হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঝড়-বৃষ্টি কম হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন। তবে কালবৈশাখী ঝড় হলে গুটি ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও বাজারে আমের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা সন্তুষ্ট ছিলেন। এবারও উৎপাদন ভালো হলে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, এ বছর আমের মুকুল ভালো এসেছে। কৃষকদের নিয়মিত বাগান পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।