
যশোরের পৃথক দুটি অভিযানে দুর্ধর্ষ দুই সন্ত্রাসী শেখ ফিরোজ ওরফে গোল্ডেন ফিরোজ (২৫) ও রকিবুল ইসলাম রুবেল ওরফে বড় রুবেলকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে শহরের বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকা থেকে গোল্ডেন ফিরোজ এবং চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকা থেকে বড় রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার গোল্ডেন ফিরোজ যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আলী আজীবর শেখের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ অর্ধডজন মামলা রয়েছে। অন্যদিকে বড় রুবেল শহরের মোল্লাপাড়া বাঁশতলা এলাকার ইনসান মিয়ার ছেলে। তার নামে হত্যা, বিস্ফোরক ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৩০টি মামলা রয়েছে।
যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জানান, যশোরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বড় রুবেল দীর্ঘদিন ধরে ৩০ মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, তিনি চাঁচড়া মধ্যপাড়ার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং আত্মগোপনে থাকলেও সেখান থেকেই মাদক বিক্রি করছিলেন।
পরে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রির সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাত বোতল ভারতীয় ‘উইন কোরেক্স’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গোল্ডেন ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি একজন তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। যশোর কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
ডিবি পুলিশের দাবি, গোল্ডেন ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর একটি বার্মিজ চাকু ও দুইটি হাতুড়িসহ র্যাবের জালে ধরা পড়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও পুরনো পেশায় ফিরে যান।
ওসি মোহাম্মদ আলী আরও জানান, গ্রেফতার দুই আসামিকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।