
নিউজ ডেস্কঃ-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি নিজেই। একটি দৈনিক পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে জানানো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এ ক্ষেত্রে তা প্রতিপালন করেনি।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, শুধু এই চুক্তিই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদে তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, "উনি (প্রধান উপদেষ্টা) যে প্রধান উপদেষ্টা হলেন, সেই প্রক্রিয়ার উৎসই ছিলাম আমি। কিন্তু পরে তিনি আমার সঙ্গে সেভাবে সমন্বয় করেননি। একবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি।"
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তার দুইবারের বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়। শুধু বিদেশ সফরই নয়, দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণের রেওয়াজ থাকলেও তাতে বাধা দেওয়া হয়।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এক রাতের মধ্যে দেশের সব হাইকমিশন ও দূতাবাস থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং প্রত্যাহার এবং জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও তাকে ব্যথিত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির এমন বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।