# রমজানের প্রথম দিনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অপেক্ষা, স্বামী যে আর ফিরবেন না

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%83/
- Published: 2026-02-20T16:37:53+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন। সেহরির পর ভোরের আলো ফুটতেই নতুন করে শুরু হয়েছে সংযমের
মাস। সবার ঘরে ঘরে ইফতারের প্রস্তুতি, আনন্দের আমেজ। কিন্তু বগুড়ার শেরপুরের একটি বাড়িতে
আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানে এক অন্তঃসত্ত্বা বধূর জন্য আজ শুধুই অপেক্ষা—অপেক্ষা
সেই স্বামীর, যিনি আর ফিরবেন না।

নাম হৃদয় ইসলাম লাদেন। বয়স ২৫। শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের মামুরশাহী পূর্বপাড়া
গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। কয়েক মাস আগের বিয়ে। স্ত্রী এখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। 
সংসারে নতুন মেহমান আসার আনন্দে ভাসছিলেন তারা। ক’দিন আগে স্ত্রীকে রেখে এসেছিলেন পাবনার
বেড়া উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে। রমজানের প্রথম দিনে স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে মোটরসাইকেল
নিয়ে রওনা দেন হৃদয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা পার হওয়ার সময় একটি
যাত্রীবাহী বাস তাঁকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। শেষ দেখা হয়নি স্ত্রীর 
সঙ্গে। শেষ ইফতারটা করার সুযোগ হয়নি।

শ্বশুরবাড়ির ওই অন্তঃসত্ত্বা বধূ এখনও খবর পাননি। তিনি হয়তো ভাবছেন, আজ রমজানের প্রথম
দিন, বাবা এসে নিয়ে যাবে ইফতার করতে। কিন্তু সেই বাবা তো আর ফিরবেন না।

প্রতিবেশী আল ইমরান কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “সকালে বের [হওয়ার সময় ব](http://রমজানের প্রথম দিনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অপেক্ষা, স্বামী যে আর ফিরবেন না)
ললাম, ভাই, রমজানের দিন, সাবধানে যাইয়েন। ও হেসে বলল, বউকে নিয়ে ফিরব, একসঙ্গে ইফতার
করব। আজ সেই ইফতার আর হবে না। ওর জন্য আজ শুধু কান্না।”

শাহবন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ছুটে
গিয়েছি। কী কষ্ট! ছয় মাসের পেট নিয়ে বউ অপেক্ষা করছে স্বামীর জন্য। স্বামী তো আর ফিরবে
না। রমজানের প্রথম দিনে এত বড় দুঃখ সইবে কী করে ওই মেয়ে!”

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, “দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। তবে 
এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রমজানের এই প্রথম দিনটি কারও জন্য যেমন আনন্দের, কারও জন্য তেমনই শোকের। একটি তরুণ 
প্রাণ চলে গেছে না ফেরার দেশে। রেখে গেছে একটি অন্তঃসত্ত্বা বধূ, একটি ভাঙা সংসার আর
শোকে মুহ্যমান একটি গ্রাম। অপেক্ষা এখন শুধু শেষ বিদায়ের।
