
ডেস্ক প্রতিবেদক : পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে ছাড়–অফারের উৎসব। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ— সর্বত্রই নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় ও প্রমোশন চালু থাকলেও বাংলাদেশে দেখা মিলছে ঠিক উল্টো চিত্র। রমজান শুরুর আগেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যার চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান উপলক্ষে বড় বড় খুচরা বিপণি ও সুপারশপগুলোতে চলছে মূল্যছাড় কর্মসূচি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সুপারমার্কেট খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। সৌদি আরব সরকার নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চালু করেছে। একইভাবে কাতারে নির্দিষ্ট পণ্যে মূল্যনিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রমজানকেন্দ্রিক সেল ও প্রমোশন চালু হয়েছে, যেখানে খেজুর, ডাল, তেল ও ইফতারসামগ্রীতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। রমজান শুরুর আগেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মুরগি, ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতারসামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত লেবু, শসা, বেগুন ও খেজুরের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০–৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভোজ্যতেল ও ডালের ক্ষেত্রেও বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়েও।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন বাজার মনিটরিং জোরদারের কথা বললেও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য রমজানের বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
একজন ক্রেতা জানান, "আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সবজি ও নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন ছাড় দেওয়া হচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে কেন দাম বাড়ছে— বুঝতে পারছি না।"
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা ও সরকারি নজরদারির কারণে অনেক দেশে মূল্যছাড় দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সরবরাহব্যবস্থা, আমদানি ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে উল্টো মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হয়।
তারা আরও বলেন, "বাংলাদেশে সিন্ডিকেট ব্যবসার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ও করজট সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল করে তোলে।"
রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস হলেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ মানুষের জন্য এই পবিত্র মাসের ব্যয়ভার আরও বাড়বে— এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলো সরকারের প্রতি জোরালো বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।