
ডেস্ক প্রতিবেদক | রাজশাহী ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের বিপরীতে পদ্মা নদীর ওপর ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের পানিশূন্যতা ও বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, "পদ্মা নদীতে কোনো পানি নেই। বহু মানুষ থাকলেও এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। আমরা বরেন্দ্র অঞ্চলে পুনরায় বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করতে চাই। খাল-বিল ও পদ্মা নদী খনন করে পানির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে এবং সরাসরি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে।"
জনসভায় রাজশাহীর স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তার উল্লেখযোগ্য ঘোষণাগুলো হলো:
কৃষি ও কৃষক: কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' প্রবর্তন এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ (সুদসহ) মওকুফ।
শিল্পায়ন: রাজশাহীর আমের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং বিশেষ সহায়তায় কৃষিনির্ভর শিল্প ও কলকারখানা গড়ে তোলা।
প্রযুক্তি ও শিক্ষা: অচল হয়ে পড়ে থাকা আইটি পার্ক সচল করা, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষিত যুবকদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ।
সামাজিক নিরাপত্তা: প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং রাজশাহীতে একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ।
নির্বাচন প্রসঙ্গে দেশবাসীকে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, "বিগত সময়ে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবারও একটি মহল ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে যাতে ভোট ক্ষতিগ্রস্ত বা বাধাগ্রস্ত করা যায়। কেউ যেন ভোট বানচাল করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সতর্ক থাকতে হবে।"
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "তদন্তে যদি বিএনপির কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে আমরা বিচার কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করব। তবে বিচার হতে হবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এবং তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ।"
শান্তির বার্তা দিয়ে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে, বিএনপি কোনো বিবাদ বা সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং জনগণের উন্নয়ন ও সেবাই দলটির মূল লক্ষ্য।