
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
রান্নাঘরের অপরিহার্য মসলা হলুদ। কিন্তু এর ব্যবহার শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রসাধনী তৈরি থেকে শুরু করে রং শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও হলুদের বহুল ব্যবহার রয়েছে। নানামুখী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকরা এখন হলুদ চাষে ঝুঁকছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলার সর্বত্রই বাড়ছে হলুদ চাষ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবনা, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ময়মনসিংহ ও নীলফামারী হলুদ চাষের জন্য দেশব্যাপী পরিচিত। তবে বর্তমানে পাঁচবিবি উপজেলাতেও দিন দিন হলুদ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার কৃষকরা উচ্চফলনশীল মরিচবাটি, বোল্ডার ও গাঙ্গনি জাতের হলুদ চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার সীমান্তবর্তী কড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ হলুদ চাষ। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন হলুদ তোলা ও বাজারজাতকরণের কাজে। এ গ্রামের চাষী নওশাদ মন্ডল জানান, তিনি এ বছর ১ বিঘা জমিতে মরিচবাটি জাতের হলুদ চাষ করেছেন। অন্য ফসলের তুলনায় হলুদ চাষে খরচ কম এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হয়। ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় পাইকার শহিদুল ইসলাম বলেন, 'কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি হলুদ কিনে আমরা দেশের বিভিন্ন জেলার আড়তে পৌঁছে দিই। এখানকার হলুদের মান ভালো হওয়ায় চাহিদাও প্রচুর।'
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে পাঁচবিবি উপজেলার ১০৫ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ করা হয়েছে। হলুদের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের সুযোগ রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
পুষ্টিগুণ তুলে ধরে তিনি আরও জানান, হলুদে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ক্যারোটিন রয়েছে। এতে বিদ্যমান কারকিউমিন নামক রাসায়নিক উপাদানটি হলুদকে স্বতন্ত্র রং ও গন্ধ দেয় এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
কম খরচে অধিক লাভের আশায় পাঁচবিবির কৃষকরা হলুদ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও পরামর্শ পেলে এই অঞ্চলে হলুদ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।