# রোজার চার মাস আগেই দাম বাড়ছে ছোলা, তেল, পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও খেজুরের

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1/
- Published: 2026-10-24T08:24:44+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

রমজান শুরু হতে এখনো চার মাস বাকি। এর মধ্যেই রোজার ছয় পণ্য ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ,
মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম নীরবে বাড়ানো হচ্ছে। আয় না বাড়লেও খাদ্যপণ্য, এলপিজি
সিলিন্ডার, সাবান, শ্যাম্পু ও ডিটারজেন্টের দাম বেড়েছে। এর ওপর নতুন করে এই মূল্যবৃদ্ধিতে
সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সব শ্রেণির মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও
রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা পুরোনো কৌশলই নিয়েছেন।

**এক সপ্তাহে যেভাবে বেড়েছে দাম**

শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া
তথ্য:

 * ছোলা (কেজি): ১২৫ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১০ টাকা
 * খোলা সয়াবিন তেল (লিটার): ২০০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ১৯৫ টাকা
 * দেশি পেঁয়াজ (কেজি): ৬০ টাকা, তিন দিন আগে ৫৫ টাকা
 * ছোট দানার ভালো মানের মসুর ডাল (কেজি): ১৬৫ টাকা, আগে ১৬০ টাকা
 * খোলা চিনি (কেজি): সর্বোচ্চ ১২০ টাকা, ১৪ দিন আগে ১১৫ টাকা
 * মাবরুম খেজুর (কেজি): ১৩০০ টাকা, সাত দিন আগে ১০০০ টাকা

**ক্রেতার দুশ্চিন্তা**

কাওরান বাজারে ছেলেমেয়ের জন্য প্রতি সপ্তাহে ছোলা ও খেজুর কেনেন মো. আবু সালেহ। তিনি
বলেন, এ সপ্তাহে ছোলায় কেজিতে ১৫-২০ টাকা এবং খেজুরে ৩০০ টাকা বেড়েছে। রোজার চার 
মাস আগেই অন্যান্য পণ্যের দামও চুপিসারে বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা 
তাই কাটছে না।

**ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা**

কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর আলী যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়
পরিবহন খরচ বেড়েছে। সে কারণেই পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও ছোলা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বোতলজাত সয়াবিন বিক্রিতে এখন কমিশন কম, মিল থেকেও সরবরাহ কম। তাই খোলা সয়াবিনের চাহিদা
বেড়ে দামও কিছুটা বেড়েছে। তাঁর দাবি, এই দাম কয়েক দিন পরপর ওঠানামা করে এবং সরবরাহ
বাড়লে কমবে।

**ক্যাবের অভিযোগ**

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট 
এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে এমনিতেই সব পণ্যের দাম চড়া। আয় না বাড়লেও সব শ্রেণির
মানুষের খরচ বেড়েছে। ক্রেতাকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে 
না। রমজানের অনেক আগেই সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে রোজার ছয় পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু
করেছে। দাম যৌক্তিকভাবে বেড়েছে কি না, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।

**সরকারের বক্তব্য**

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যুগান্তরকে বলেন, মৌসুমের কারণে ডিম ও শাকসবজির
দামে সাময়িক ওঠানামা হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সার্বিকভাবে স্থিতিশীল। সরবরাহব্যবস্থা
সচল, জোগান পর্যাপ্ত এবং আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন স্বাভাবিক, তাই বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা
নেই। রমজানে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান
তিনি। তাঁর মতে, একসময় আমদানিনির্ভর পেঁয়াজেও এখন দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, যা কৃষি উৎপাদন
সক্ষমতার অগ্রগতির উদাহরণ। রোজায় ক্রেতাকে স্বস্তি দিতে সব কার্যক্রম চলমান আছে এবং
এবার ক্রেতারা স্বস্তিতে পণ্য কিনতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

**বাজারের অন্যান্য চিত্র**

ব্রয়লার মুরগির কেজি এক সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে, গত সপ্তাহে ছিল ১৯০
টাকা। অন্যদিকে ডিমের দাম কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা
ডিম ১৩০-১৩৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪৫-১৫০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে
এখনো ডিম ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের মধ্যে গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি। মাছের দামও চড়া।
কেজিপ্রতি দাম:

 * তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা
 * কাতল ৩৫০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১১০০ টাকা
 * পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, রুই ৪৫০-৫০০ টাকা
 * ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা
 * মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা
 * দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা
