
রোজা শুরু হতে আর মাত্র তিনদিন বাকি, তার আগেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইফতারে শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত লেবুর দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ বেড়েছে। বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি হালি লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে কিংবা বাসাবাড়ির অলিগলির ভ্যানে—কোথাও এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকার কমে ছোট এক হালি লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝারি ও বড় সাইজের লেবুর হালি উঠেছে ১০০ টাকায়। কোথাও কোথাও আবার বড় সাইজের লেবুর হালি ১২০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন বিক্রেতারা, যা দরদাম করে ক্রেতারা ১০০ টাকায় কিনতে পারছেন। ব্যবসায়ীদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে।
ঢাকার কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঠিক দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারে লেবুর হালি ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তা বেড়ে হয় ৫০-৬০ টাকা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এসে তা সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
রোববার দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শান্তিনগর বাজারে একজন ক্রেতার কাছে প্রতি পিস লেবু ৩০ টাকা চাইছিলেন বিক্রেতা খালেদ মিয়া। পরে দরদাম করে ওই ক্রেতা দুটি লেবু কেনেন ৫০ টাকায়।
নয়াবাজারে সবজি কিনতে আসা আল আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, রোজা উপলক্ষে লেবু কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দোকানে দাম জানতে চাওয়ার পর আর কিনতে ইচ্ছা করছে না। হালি চাচ্ছে ৮০ টাকা। রোজা ঘিরে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
একই বাজারের বিক্রেতা নিজামুল হক বলেন, পাইকারি বাজার থেকে আকার ও মানভেদে ৬০-৭০ টাকা দিয়ে হালি কিনেছি। যার কারণে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হয়। বিক্রিও করতে হয় বাড়তি দামেই।
লেবু ছাড়াও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও অস্থিরতা দেখা গেছে:
পেঁয়াজ: প্রতি কেজি ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (আগে ছিল ৫০ টাকা)
ব্রয়লার মুরগি: কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ২০০-২১০ টাকা
সোনালি মুরগি: ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি
তবে তেল, চিনির মতো মুদিপণ্যের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১১০-১১৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।