# শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ে বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা, সহকারী শিক্ষিকা বরখাস্ত

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf/
- Published: 2026-04-29T22:26:42+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

ফরিদপুর সদরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘স্কুল ফিডিংয়ে’ বনরুটির সঙ্গে
কাঁচা কলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত
করা হয়েছে। তবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার দাবি, কলাগুলো তিনি যেভাবে পেয়েছেন সেভাবেই 
বিতরণ করেছেন। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, খাবার স্কুলে পৌঁছার দুই দিন পর বিতরণ
করার নিয়ম থাকলেও একদিন আগেই তা বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলার পূর্বখাবাসপুরে অবস্থিত শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ
ঘটনা ঘটে বলে জানান ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

## শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের বনরুটির
সঙ্গে কাঁচা কলা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বনরুটি খেতে পারলেও কলা কাঁচা থাকায় খেতে পারেনি।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি ও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

## শিক্ষিকা বরখাস্ত

এ ঘটনায় মঙ্গলবার ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত
এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা গোলাপী বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত
করা হয়।

## বরখাস্ত শিক্ষিকার বক্তব্য

গোলাপী বেগম বলেন, “২৫ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। সে অনুযায়ী
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কলা ও বনরুটিগুলো গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে 
বিতরণ করি।”

“সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার দিয়ে যায় সেভাবেই বিতরণ করা হয়। এর কোনো নিয়ম 
ও নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি।”

নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে তিনি বলেন, “শনিবার খাবার পাওয়ার পর রোববার প্রথমার্ধে
৩২ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করা কলাগুলো পাকা ছিল। দ্বিতীয় শিফটে ২০টি কলা ছিল। যেগুলো
সাগরকলা—যা উপরে সবুজ থাকলেও ভেতরে পাকা থাকে। কোন নির্দেশনা ও নিয়মনীতি না থাকায় 
কলাগুলো বিতরণ করা হয়।”

## প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন বলেন, “কী বলতে কী বলব ভয় লাগে। আমি ওইদিন
ছুটিতে ছিলাম। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে খাবার সরবরাহ করেনি। তারা সেদিন 
যে কলা দিয়েছেন, তার দু-তিনটি কলা এখনো রয়েছে; যা পাঁচ দিনেও পাকেনি।”

“তাদের দেওয়া কলা বিতরণ করে আমার স্কুলের শিক্ষক ভুল করেননি। এটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের
দায়। অথচ একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

## সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন
বলেন, “বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনের খাবারগুলো সাধারণত দুই দিন আগে পাঠানো
হয়। শনিবার পৌঁছানো কলাগুলো রোববার বিতরণ করা হয়; যা সোমবারের টিফিনে দেওয়ার কথা ছিল।”

“কিন্তু দুই দিনের জায়গায় একদিন আগে কলাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের কারণে এমন
ঘটনা ঘটেছে। আর একদিন পরে কলাগুলো এমনিতেই পেকে যেত।”

## শিক্ষক সমিতির ক্ষোভ

খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো শিক্ষককে
সাময়িক বরখাস্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.
ইমরান হোসেন।

তিনি বলেন, “সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যদি কাঁচা কলা সরবরাহ করেন, তাহলে শিক্ষকের দোষ 
কী? শিক্ষকদের এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত বরখাস্ত প্রত্যাহার চাই।”

## জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার 
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে
অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
