# শেরপুরের শুবলি সিঙ্গাইর বিল থেকে বোয়ালকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের দাবি স্থানীয়দের

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0/
- Published: 2026-08-04T19:28:10+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ**

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শুবলি সিঙ্গাইর বিল থেকে আধবিলা হয়ে বোয়ালকান্দি
ব্রিজ পর্যন্ত খালটি দীর্ঘদিন ধরে পুনঃখনন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দেখা দিয়েছে তীব্র
জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত একর কৃষিজমি দীর্ঘ সময়
পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এতে সময়মতো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে
এবং প্রতিবছর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই খাল দিয়ে সহজেই বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি নেমে যেত। কিন্তু
বছরের পর বছর খালটি ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে দখলের কারণে এখন পানি চলাচল 
প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই শুবলি সিঙ্গাইর বিল ও আশপাশের ফসলি জমিতে 
পানি জমে থাকে। অনেক সময় সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই পানি না নামায় ধান, সবজি ও অন্যান্য
ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

শুবলী গ্রামের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, “বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে যায়। পানি বের হওয়ার
কোনো পথ নেই। ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যায়। খালটি খনন করা হলে কৃষকেরা অনেক
উপকৃত হবেন।”

একই গ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর [চাষাবাদে অনিশ্চ](http://শেরপুরের শুবলি সিঙ্গাইর বিল থেকে বোয়ালকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের দাবি স্থানীয়দের)
য়তা তৈরি হচ্ছে। অনেক জমি বাধ্য হয়ে অনাবাদি রাখতে হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে,
কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষকেরা যেমন ক্ষতির মুখে
পড়ছেন, তেমনি কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত
খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি, শুবলি সিঙ্গাইর বিল থেকে আধবিলা হয়ে বোয়ালকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত খালটি
পুনঃখনন করা হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। এতে জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে, শত
শত একর আবাদি জমি রক্ষা পাবে এবং কৃষকেরা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে 
কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক। খালটি খনন করা হলে জমির পানি দ্রুত নেমে যাবে 
এবং কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ে আবাদ করতে পারবেন। তিনি বলেন, “এলাকার কৃষকেরা কৃষি অফিস
ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের
সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। খালটি পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে
সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাঁদের মতে, এতে শুধু কৃষিজমিই রক্ষা পাবে না, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো 
কৃষক পরিবারের জীবিকা আরও নিরাপদ হবে।
