
নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের কোলাহল, ঢোলের করতাল আর দূর থেকে ভেসে আসা বৈঠার ছন্দ—দীঘ দিন পর বগুড়ার শেরপুরে আবার ফিরে এলো সেই হারিয়ে যাওয়া মাতম। ঐতিহ্যবাহী কল্যাণী মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নৌকা বাইচের ফাইনাল প্রতিযোগিতায় হাজারো চোখ আটকে ছিল করতোয়ার বুকেই।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর উপজেলার কল্যাণী ঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চরম উত্তেজনাকর এ নৌকা বাইচ। নদীর দু’পাড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি পুরো ঘাট এলাকাকে বানিয়ে ফেলেছিল এক উৎসবের নগরী।
পানির বুকে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর ফাইনালের মূল আকর্ষণ ছিল সিরাজগঞ্জের শক্তিশালী একডালা দল এবং স্থানীয় শেরপুরের বরইতলী গ্রামের ‘বিজয় নিশান’ নৌকার মধ্যকার লড়াই। বৈঠার হাঁক আর নদীর জল ছিটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ এক প্রতিদ্বন্দিতা শেষে সিরাজগঞ্জের দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বরইতলী গ্রামের ‘বিজয় নিশান’। প্রতিযোগী দলগুলোর শেষ মুহূর্তের সাঁতার আর দর্শকদের চিৎকারে পুরো কল্যাণী ঘাট যেন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো পুরস্কার প্রতিযোগিতা শেষে মেলা প্রাঙ্গণে বিজয়ী নৌকার মালিক সরোয়ার রহমানের হাতে ট্রফি ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু।
কল্যাণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি শামীম রেজা মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা তুলে ধরেন গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্য রক্ষা করার গুরুত্ব। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
পিয়ার উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি, শেরপুর উপজেলা বিএনপি ও চেয়ারম্যান, খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক, শেরপুর উপজেলা বিএনপি
আবু সাঈদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শেরপুর উপজেলা বিএনপি
হুমায়ুন কবির বিপ্লব, সভাপতি, সুঘাট ইউনিয়ন বিএনপি ও কল্যাণী মেলা কমিটি
কে এম মানিক, সাধারণ সম্পাদক, সুঘাট ইউনিয়ন বিএনপি
নূরনবী মন্ডল হিটলার, সাধারণ সম্পাদক, কল্যাণী মেলা কমিটি
এছাড়া স্থানীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ এ উৎসবে শামিল হন।
প্রাণ ফিরে পেল গ্রামীণ ঐতিহ্য দীর্ঘ বিরতির পর কল্যাণী মেলা ও নৌকা বাইচ পুনরায় শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে এসেছিলেন কেবল এই বাইচের উন্মাদনা উপভোগ করতে। কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই লোকজ ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ পাওয়ায় আনন্দিত পুরো শেরপুরবাসী।