
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের টাউন কলোনী এলাকায় দিনদুপুরে এক চোরচক্র ভবনের ভাড়াটিয়াকে ঘরে আটকে রেখে দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মনিরুজ্জামান (৪৫) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘরের ভেতর আটকে ছিলেন ভাড়াটিয়া
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান সাবেক সেনা সদস্য মো. আব্দুল মালেকের চারতলা ভবনের তিনতলায় ভাড়া থাকেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ব্যবসায়িক কাজে পরিবারসহ দোকানে চলে যান। অপরদিকে, ওই ভবনের দ্বিতলার ভাড়াটিয়া মাসুদ মজুমদার তার রুমে অবস্থান করছিলেন।
মাসুদ মজুমদার জানান, আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে তিনি রুম থেকে বের হতে গিয়ে দেখেন, তার দরজা বাইরে থেকে আটকানো। চোরেরা তাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে নির্বিঘ্নে অপর ফ্ল্যাটে চুরি করার সুযোগ নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি রুম থেকে বের হয়ে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।
প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট
চক্রটি প্রথমে দ্বিতলায় মাসুদ মজুমদারের ফ্ল্যাটে ঢুকে ৩ হাজার টাকা চুরি করে। এরপর তারা তিনতলায় মনিরুজ্জামানের ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে প্রবেশ করে।
ফিরে এসে তছনছ অবস্থা দেখেন মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, চোরেরা তার আলমারির ড্রয়ার ভেঙে ৩টি গলার চেইন, ২টি গলার হার, ২টি হাতের বালা ও ৪টি আংটিসহ আনুমানিক ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া নগদ ১,৫০০ টাকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে গেছে তারা।
ভবনের মালিক আব্দুল মালেক জানান, তিনি পৌনে ৪টার দিকে নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, তিনতলার ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙা।
তদন্ত শুরু হয়েছে: ওসি
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে থানা অবগত হয়েছে এবং একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ওসি শহরবাসীকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার এবং বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।