
বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে উচ্চক্ষমতার পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে কৃষক কোরবান আলী (৪৫)-এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে গিয়ে তার ছেলে রবিন (১৮) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আর স্বামী ও সন্তানের নিথর দেহ দেখে স্ত্রী রুবি খাতুন (৩৫) স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের টুনিপাড়া মৌজায় এই heartbreaking ঘটনা ঘটে। হতাহতদের বাড়ি ওই ইউনিয়নের কেল্লা আকন্দ পাড়া গ্রামে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৬টার দিকে কোরবান আলী নিজের জমিতে কাজ করতে যান। সেখানে সেচ পাম্পের জন্য টানা ১১ হাজার ভোল্টের একটি তার ঝড়ে ছিঁড়ে ঝুলছিল। অসাবধানতাবশত ওই তারে জড়িয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। সারাদিন বাড়ি না ফেরায় সন্ধ্যায় ছেলে রবিন বাবার খোঁজে ওই জমিতে যান। অন্ধকারে বাবার দেহ স্পর্শ করতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে রাত ৭টার দিকে রুবি খাতুন প্রতিবেশীকে নিয়ে সেখানে গিয়ে স্বামী ও সন্তানের মৃতদেহ দেখে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রবিন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে রুবি খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা নুর আলম ও শ্যালোক আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, তিন দিন আগে ঝড়ে তারটি ছিঁড়ে পড়েছিল, কিন্তু সেচপাম্পের মালিক বা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় কৃষকরাও একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, অবহেলার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে।
শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের জোনাল কার্যালয়ের পরিদর্শক সবুজ কুমার হালদার দাবি করেন, “স্থানীয় কেউ তার ছিঁড়ে পড়ার বিষয়টি জানায়নি। সংবাদ পেয়েই আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মেরামত করি।”
এদিকে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।