
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপড় গ্রামে এক কৃষকের পৈতৃক সেচ নলকূপের লাইসেন্স অবৈধভাবে বাতিল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মাসুদ রানা আর্থিক সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
মাসুদ রানা জানান, তার পিতা মৃত আনিসুর রহমান ১৯৮৮ সালে আইআরডিবি’র মাধ্যমে একটি অগভীর নলকূপ এবং ১৯৯৯ সালে বগুড়ার সেউজগাড়ি জামতলা এলাকা থেকে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি নিজে এসব নলকূপের মাধ্যমে নিজ জমি ও আশপাশের কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে আসছিলেন।
২০০৮ সালের আগে সেচ নলকূপের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক না থাকলেও পরবর্তীকালে তা চালু হলে তিনি ২০১৫ সালে উপজেলা সেচ কমিটিতে আবেদন করেন। সে সময় তার নলকূপ থেকে প্রায় ৫৮০ ফুট দূরত্বে ‘বরেন্দ্র’ নামে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এ নিয়ে অনিয়ম ও কৃষকদের অজান্তে স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগে তিনি এবং আরও তিন কৃষক শেরপুর আদালতে মামলা করেন।
মাসুদ রানার দাবি, মামলা বিচারাধীন থাকায় কর্তৃপক্ষ তার প্রতিপক্ষের নলকূপের লাইসেন্স আটক রাখলেও পরে ভিন্ন নামে একটি লাইসেন্স জারি করা হয়। অন্যদিকে, তার নিজের পুরোনো নলকূপের জন্য ২০২১ সালে লাইসেন্স পেলেও ২০২৩ সালে তা বাতিল করা হয়। আপিলের পর ওই বছরই ডিসেম্বরে লাইসেন্স পুনর্বহাল হয় এবং পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়।
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তার বিদ্যুৎ মিটার বিকল হলে তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ১,৭১২ টাকা জমা দিয়ে নতুন মিটারের আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মিটার বসানো হয়নি। পরে তাকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে—যদিও এ বিষয়ে তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তৎকালীন ইউএনও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।
উপজেলা বিএডিসি (সেচ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, ‘বরেন্দ্র’ প্রকল্পের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম উৎপল মন্ডল বলেন, সেচ কমিটি লাইসেন্স বাতিল করায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পূর্বের সেচ কমিটির সিদ্ধান্তেই লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলে শুনেছি। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মাসুদ রানা। তিনি তার বৈধ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনর্বহাল এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।