# শেরপুরে মাদ্রাসার দুই শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, পালালেন ২ শিক্ষক

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf/
- Published: 2026-06-30T23:39:39+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:** বগুড়ার শেরপুরে এক শিক্ষকের মুঠোফোন হারানোর জেরে দুই
শিশু ছাত্রকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক এলাকা থেকে
পালিয়ে গেছেন।

গত রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া হাফিজিয়া কওমি 
মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই শিশু হলো—বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শ্রীঘণ্টা
গ্রামের মো. সিফাত (১০) এবং শেরপুরের জামুর উত্তর পাড়া গ্রামের নাঈম হোসেন (১১)। তারা
ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—আতিকুল হাসান ও ইসমাইল
হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার শিক্ষক আতিকুল হাসানের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়।
এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ও অপর শিক্ষক ইসমাইল হোসেন গভীর রাতে দুই শিশুকে ঘুম থেকে
ডেকে তোলেন এবং ফোন চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান। নির্যাতনে
দুই শিশুর কোমর ও শরীরের নিচের অংশে গুরুতর জখম ও কালশিটে দাগ পড়ে যায়।

আহত সিফাতের বড় চাচা আহমেদ আলী জানান, সোমবার দুপু[রে তিনি নি](http://শেরপুরে মাদ্রাসার দুই শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, পালালেন ২ শিক্ষক)
র্যাতনের খবর পান। মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন দুই শিশু বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পরে
তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে
আনা হয়। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে মোবাইল
হারানোর জেরেই এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সোমবার বিকেলে মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ
করেন। তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক গা ঢাকা দেন।

কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, ‘মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে
শিশুদের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি
এবং এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘সংবাদ পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায়
আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের
আটক করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।’
