
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
দুর্ঘটনা কমাতে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছিল ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে। কিন্তু বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর বাজার এলাকায় সেই সার্ভিস লেন এখন দখল হয়ে গেছে দোকানপাটে। ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত লেনটি এখন পরিণত হয়েছে বাজারের সম্প্রসারিত অংশে। প্রতিদিনই সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সার্ভিস লেনটি নির্মাণের পর থেকেই ধীরে ধীরে দখল হতে শুরু করে। বর্তমানে লেনজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। দোকানের সামনে পণ্য রাখা, ক্রেতাদের ভিড় এবং বিভিন্ন যানবাহনের অবাধ পার্কিংয়ের কারণে চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ধীরগতির যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ব্যস্ত সময়ে এই যানজট মূল মহাসড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যানজটের কারণে শুধু সময়ই নষ্ট হচ্ছে না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। পথচারীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে মূল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এতে প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।
মির্জাপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বলেন, "প্রতিদিন এই পথ দিয়ে মাদ্রাসায় যাতায়াত করি। কয়েক মিনিটের রাস্তা পার হতে অনেক সময় আধা ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়। জরুরি কাজেও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। সার্ভিস লেন দখলমুক্ত করা হলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।"
অটোভ্যান চালক সোহাগ হোসেন বলেন, "যানজটে আটকে থেকে প্রতিদিন অনেক সময় নষ্ট হয়। যাত্রীরা বিরক্ত হন, আবার আয়ও কমে যায়। রাস্তার ওপর দোকান বসে থাকায় গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।"
পথচারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, "হেঁটে চলাচলের জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়েই চলতে হয়। শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সার্ভিস লেন নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধীরগতির যানবাহনকে আলাদা পথে চলাচলের সুযোগ দেওয়া এবং মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো। কিন্তু অবৈধ দখলের কারণে সেই উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ও উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দখলদারেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আইয়ুব আলী বলেন, "আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর ছোনকা এলাকায় ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছি। মির্জাপুর বাজারের সার্ভিস লেন দখলের বিষয়টিও আমার নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সার্ভিস লেনটি দখলমুক্ত করা হলে যানজট কমবে, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।