
ডেস্ক প্রতিবেদক | ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংস্কারের গণভোট। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে প্রস্তাবিত এই সংস্কার নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই ঐতিহাসিক গণভোট নিয়ে জনমত গড়তে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে:
ব্যানার ও ফেস্টুন: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সম্মুখভাগে গণভোটের লোগো সংবলিত অন্তত দুটি দৃষ্টিনন্দন ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।
দাপ্তরিক যোগাযোগ: সকল সরকারি চিঠি, আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রে গণভোটের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ও নোটিশ বোর্ড: প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড এবং অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে।
অভিভাবক সমাবেশ: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই বার্তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের সরাসরি রায় নিতেই এই গণভোটের আয়োজন। এই সনদে উল্লিখিত উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো হলো:
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ: একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না।
উচ্চকক্ষ গঠন: জাতীয় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব।
যৌথ ভূমিকা: নির্বাচন কমিশন (EC) এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
সচেতনতামূলক প্রচারণায় ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার ব্যানারে মূল স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে— ‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে’।
মাউশির সহকারী পরিচালক মো. খালিদ হোসেন এবং মাদ্রাসা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।