
ডেস্ক প্রতিবেদক | ঢাকা | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ভরা শীত মৌসুমে বাজারে সবজির জোগান উপচে পড়লেও কমছে না দাম; উল্টো সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের মূল্য। বিশেষ করে কাঁচামরিচ ও মুরগির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিক্রেতারা পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার অজুহাত দিলেও ক্রেতাদের দাবি—তদারকির অভাবে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকানো হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ বর্তমানে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য সবজির দামও চড়া:
বেগুন: প্রতি কেজি ৮০ টাকা (গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা)।
পেঁপে ও শালগম: কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৫০ ও ৬০ টাকায়।
শসা ও টমেটো: প্রতি কেজি ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফুলকপি ও বাঁধাকপি: আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা।
অন্যান্য: মুলা ৪০ টাকা, শিম ৪০-৮০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা হাবিবুল্লাহ জানান, পাইকারি পর্যায়ে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের কোনো সংকট নেই, তবুও দাম কমানো হচ্ছে না।
সবজির পাশাপাশি মধ্যবিত্তের নাগালে থাকা ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। ১৭০-১৮০ টাকার ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ২৯০-৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই:
গরুর মাংস: প্রতি কেজি ৭৫০-৮০০ টাকা।
খাসির মাংস: প্রতি কেজি ১১০০-১২০০ টাকা।
নয়াবাজারের বিক্রেতারা বলছেন, শীতে খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বাড়ার অজুহাতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন।
নদী ও খাল-বিলের মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি দরে।
চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
আকারভেদে চিংড়ি ৭৫০-১২০০ টাকা।
ইলিশের দাম আকাশচুম্বী; এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০-২৫০০ টাকা এবং বড় সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শীতের ভরা মৌসুমে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও দামের এমন ঊর্ধ্বগতি অস্বাভাবিক। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।