# সরকারি ধান সংগ্রহে অ্যাপে আবেদন বোঝে না কৃষক, বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যেই চলছে ধান কাটা-মাড়াই

- Link: https://dailybogratimes.com/%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa/
- Published: 2026-05-09T22:39:58+06:00
- Author: বার্তা বিভাগ

[[

**এনাম হক, বগুড়া থেকেঃ **

 বগুড়ার শেরপুরে চলতি বোরো মৌসুমে একদিকে ঘন ঘন বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে ধান কাটতে
ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা, অন্যদিকে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অ্যাপের মাধ্যমে
আবেদন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ অনেক চাষি।

শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ধান কাটা চলছে, আবার কোথাও
পুরোদমে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। ধানের মাঠ থেকে অটো চালনা পেশায় চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট
ও বাড়তি খরচ কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানান অনেকে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় ২০ হাজার ৪৮৫ হেক্টর 
জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক
টন।

মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা জানান, বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে
হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক জমির ধান হেলে পড়ায় শ্রমিক সংকটের মধ্যেই কাটা-মাড়াই চালিয়ে
যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি দামে ধান বিক্রির জন্য অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করার বিষয়টি
অনেক কৃষকের জন্য নতুন ও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধান ব্যবসায়ী শরীফ বলেন, “বৃষ্টির কারণে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছেন। বিশেষ করে খড় জমিতেই রেখে আসতে হচ্ছে।”

সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “খাদ্য অফিসে অ্যাপের মাধ্যমে
আবেদন করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে পরে ঠিক হবে বলে শুনেছি।”

![সরকারি ধান সংগ্রহে অ্যাপে আবেদন বোঝে না কৃষক, বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যেই চলছে ধান কাটা-
মাড়াই](https://dailybogratimes.com/wp-content/uploads/2026/05/Screenshot_2.jpg)

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার বলেন, “চলতি মৌসুমে ধানের ফলন খুব 
ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঝোড়ো বাতাসে উপজেলার প্রায় ২৫ হেক্টর জমির ধান হেলে পড়েছে।
রোদ পেলে অনেক ধান আবার সোজা হয়ে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা
প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা এলে তা বিতরণ করা হবে।”

বোরো ধান সংগ্রহের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে
এ বিষয়ে চিঠি পাওয়া গেছে। আগ্রহী কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে
পাঠানো হবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক
টন ধান ও ১ হাজার ৯৪৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি
কৃষক সরকারি গুদামে সর্বোচ্চ তিন টন ধান সরবরাহ করতে পারবেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, “কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য
অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকেও তালিকা নেওয়া হচ্ছে। 
পুরোনো ও নতুন তালিকা সমন্বয় করে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। 
আর চাল সংগ্রহ করা হবে ডিলারদের মাধ্যমে।”

এবার নতুন ধানের বাজারদর নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। বর্তমানে কাটারী জাতের
ভালো মানের ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের ধান বিক্রি 
হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। সুবল লতা জাতের ভালো মানের ধান ১ হাজার 
১০০ টাকা এবং সাধারণ মানের ধান ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট জাতের
ভালো মানের ধান ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ মানের ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০
টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল, সেচ, সার-বীজ ও শ্রমিক খরচ বাড়লেও ধানের ন্যায্য[মূল্য মিলছে](http://সরকারি ধান সংগ্রহে অ্যাপে আবেদন বোঝে না কৃষক, বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যেই চলছে ধান কাটা-মাড়াই)
না। উৎপাদন ব্যায় বাড়লেও সে তুলনায় বাজারদর বাড়েনি।

খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন ধান এবং ৪৮
টাকা কেজি দরে ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংরক্ষণের স্বার্থে
১৪ শতাংশ আর্দ্রতার শর্ত বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। আগামী ৩ মে থেকে
ধান এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়ে চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
