আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার সান্তাহার জংসন ষ্টেশনের মিটার
গ্রেজে চলাচলকারী রুট বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই রুটে বেশ কয়েকটি
আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। সান্তাহার-বোনারপাড়া রুটে গত দুই সপ্তাহের
কম ব্যবধানে তিনবার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে করে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
দেখা দিয়েছে এবং ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। ট্রেন
লাইনচ্যুত ঘটনায় প্রতিবার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এসব
ট্রেন লাইনচ্যুত ঘটনার প্রকৃত কারন চিহ্নিত করতে পারেনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথে প্রতিদিন ৮টি ট্রেন
চলাচল করে। এরমধ্যে ৫টি আন্তঃনগর, দুটি মেইল এবং ১টি লোকাল ট্রেন যাতায়াত
করে। যাওয়া-আসা মিলে মোট ১৬ বার ট্রেনগুলি যাতায়াত করে। জংসন স্টেশন
হিসেবে সান্তাহারে এই রেলপথে চলাচলকারী প্রতিটি ট্রেন যাত্রার পূর্বে
সংশ্লিস্ট কর্মচারীরা ট্রেনগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এই রেলপথে কোন ট্রেন
লাইনচ্যুত হলে ঢাকার সাথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। তখন সীমাহিন
ভোগান্তিতে পড়ে রেল যাত্রীরা। বগুড়া শহর থেকে সকালের ট্রেনে বহু কর্মকর্তা-
কর্মচারীরা আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসন দপ্তরে চাকুরে করে। কোন কারনে ট্রেন
লাইনচ্যুত হলে তারা সঠিক সময়ে অফিসে হাজির হতে পারে না।
এই রেলপথের স্টেশনগুলির মধ্যে ’পাচপীর মাজার স্টেশন’ এবং ’সৈয়দ আহম্মেদ কলেজ
স্টেশন’ ছাড়া অন্য ১০টি স্টেশনেই ট্রেন ক্রসিংয়ের জন্য লুপ বা দ্বিতীয় লাইন
বিদ্যমান। সবেচেয়ে বেশি ক্রসিং হয় সান্তাহার জংসন স্টেশন এবং বগুড়া স্টেশনে।
এসব লুপ লইনের ¯িøপারগুলি বেশি নষ্ট এবং লাইনে পাথর নেই বলে যাত্রীদের সাথে কথা
বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে পরিবহন বিভাগের সাথে কথা বললে তারা বার বার ট্রেন লাইনচ্যুত ঘটনার
কারন হিসেবে রেললাইনে বসানো পুরোনো ¯িøপারগুলির নাজুক অবস্থাকে দায়ী
করছে। এমতাবস্থায় ওই পুরোনো ¯িøপারগুলো জরুরী ভিত্তিতে বদলানো দরকার হলেও
¯িøপার মজুদ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া রেল লাইনে পর্যাপ্ত পাথরও
নেই। ফলে বর্ষা মৌসুমে ভারী ট্রেনের ভার লাইন নিতে পারছে না।
সান্তাহার-বোনারপাড়া রেলপথে লক্ষ করা গেছে এখানে ব্যবহত সিল্পারগুলি অনেক
পুরোনো। পাথরও ঠিকমতো নেই। ট্রেনের লাইনে ঘাস জন্মেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য ক্যারেজ ওয়াগন ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নœান বলেন,
প্রকৃত কারন জানার জন্য যে দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে, সেগুলি পরীক্ষা-
নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক, রাজশাহী (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার
বলেন, এ ব্যাপারে আমি অসস্তুষ্ট। জনগন এ ব্যাপারে যেন আর এ বিষয়ে অসন্তুষ্ট না
হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।